তালামীয নিউজ২৪ঃঃ 
মদীনার রাহী কাফেলা, আহলে সুন্নাতের পতাকাবাহী সংগঠন, শামসুল উলামা আল্লামা ফুলতলী ছাহেব (রহ)'র স্নেহধন্য, আমার প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার ফুলতলী ছাহেব বাড়ীতে অনুষ্ঠিত তিনদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সমাপ্ত হয়েছে, প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও এই অনুষ্ঠানের নির্মলতার রেশ,এর স্পর্শ, এর স্নিগ্ধতা আমাদের মনে প্রাণে এখনো প্রশান্তির সৃষ্টি করছে। এই তিনদিনে মনে হয়েছে সবার সাথে আরো বেশী হৃদ্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তাইতো সবাই যখন বিদায় নিয়ে যার যার গন্তব্যে চলে যাচ্ছিলেন তখন কষ্ট লেগেছে।
তালামীযের প্রায় ৪০০ কর্মী নিয়ে হওয়া এই অনুষ্ঠানের কারনে মনে হয়েছিল ফুলতলীতে তারুণ্যর মেলা বসেছে, এই তিনদিন তারুণ্যের জোয়ারে ভেসেছে ফুলতলী।তারুণ্য দিপ্ত স্লোগানে মুখরিত ছিলো ফুলতলী।
ঈদের ছুটির সময়ে যখন ঘুরতে যাওয়ার কথা, নিজ আত্মীয়- স্বজনদের সাথে আনন্দ করার কথা সেই সময়ে তালামীযে ইসলামিয়ার কর্মীরা তালামীযের টানে, প্রিয় মুর্শিদের সান্নিধ্যের আশায় এই মাহফিলে স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির মাধ্যমে এক নজীর সৃষ্টি করেছেন।হয়তো অনেকের থাকা-খাওয়ায় কষ্ট হয়েছে তারপরও সবাই ছিলেন উৎফুল্ল, নতুন কিছু শিখতে পারার আনন্দে এবং প্রিয় মুরশিদের বাড়ীর পরিবেশে থাকার আনন্দে আনন্দিত।আসলে 'তালামীয' অন্যান্য সংগঠন থেকে এইখানেই ব্যতিক্রম, সবাই মাটিতে বসে যখন খাচ্ছিলেন তাদের মনে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব আসেনি, তারা মনে করেছেন আমরা যেখানে বসে খাচ্ছি আমাদের মুরশিদ সেই পথ দিয়ে হেটেছেন, তারা তখন দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে বরং প্রিয় মুর্শিদের স্মৃতিচারণে বিভোর ছিলেন।
এই প্রশিক্ষণ আমাদেরকে অনেক কিছু দিয়েছে, অনেক কিছু শিখিয়েছে, আমরা দ্বীন -দুনিয়া -আখেরাতের কল্যাণ সম্পর্কে জেনেছি, বিনয়ী হতে শিখেছি, ত্যাগী হতে শিখেছি,নিঃসন্দেহে এই প্রশিক্ষণ আমাদের মানবতা বোধ  জাগ্রত করেছে,আর এই অনুষ্ঠান থেকে আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো আমরা বড় ছাহেবের মতো মনীষীর দু'আ পেয়েছি, যিনি এমন দুখানা হাত তুলে আমাদের জন্য দু'আ করেছেন যে দুখানা হাত হাজারো লাখো এতীমের মাথা স্পর্শ করেছে, যে দুখানা হাত দিয়ে শত অসহায়ের ঘর বেধেছেন, যে দুখানা হাত হিসাবহীন অসহায় বনী আদমকে সাহায্য সহযোগিতা করেছে, আমরা দু'আ করি  আল্লাহ যেন অসহায় বনী আদমের তরে প্রসারিত এই হাত দুখানাকে আমাদের মাথার ছায়া হিসেবে অরো অনেক অনেকদিন বাকী রাখেন, আমিন।

পরিশেষে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাকে  সফল করতে যারা শ্রম দিয়েছেন ও আর্থিক সহযোগীতা করেছেন তালামীযের কেন্দ্রীয় পরিষদের একজন হিসেবে সকলের পক্ষ থেকে তাদেরকে অসংখ্য মোবারকবাদ জানাচ্ছি, বিশেষ করে খাওয়ানোর মতো কষ্টসাধ্য কাজটি যারা হাসিমুখে করেছেন তাদেরকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি, তাদের হাসিমুখে সেচ্ছায় কাজ করা দেখে এতোই অভিভূত হয়েছি যে মনে হয়েছে চিৎকার করে বলি এই হচ্ছে তালামীয, হ্যা এটাই তালামীয। আল্লাহ সবাইকে উত্তম জাযা দান করুন, আমিন।
                                                ২১.০৯.২০১৬
 
Top