তালামীয নিউজ২৪ঃঃ নিউইয়র্কে কুইন্সের
ওজনপার্কে আল ফোরকান জামে মসজিদের ইমাম
আলাউদ্দীন আখঞ্জি এবং একই মসজিদের মুসল্লি তারা মিয়া
হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ একজন সন্দেহভাজনকে
গ্রেফতার করেছে। রোববার মধ্য রাতে তাকে
এনওআইপিডি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরিকল্পিত এই
হত্যাকান্ডের পর হত্যাকারী নিজের গাড়ি করেই ঘটনাস্থল
ত্যাগ করেন।
এসময় এক সাইকেল আরোহীর সাথে
ধাক্কা লাগলে তার গাড়ির লাইসেন্স প্লেট পড়ে যায়।
আটকৃত ব্যক্তির নাম ঠিকানা এখনো জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
 ধারণা
করা হচ্ছে, নিউইয়র্ক প্রবাসী মুসলিম এবং হিস্পানিকের
মধ্যে কিছু সময় ধরে চলা বিরোধের জের ধরেই এই
হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। শনিবার দুপুরে আল
ফোরকান মসজিদ থেকে যোহর নামাজ শেষে বাড়ি
ফেরার সময় লিবারটি এ্যভিনিউর ৭৯ এবং ৮০ স্টিটে
সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুলবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা
যান আলাউদ্দীন এবং হাসপাতালে মারা যান থেরা উদ্দিন। এ
ঘটনাকে এলাকাবাসী ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ হেইট ক্রাইম
বলে দাবি করেন। এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এখনও
আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে নিহত ইমাম আলাউদ্দিন আখঞ্জি ও তার প্রতিবেশি
থেরা উদ্দিনের জানাজা হবে সোমবার। আল ফোরকান
মসজিদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী
লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম
জানান, ময়নাতদন্তের পর সোমবার সকালে নিহত
দু’জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
“এরপর বেলা আড়াইটায় ওজন পার্কের মসজিদ আল
আমানের কাছে ৫৮১ গ্র্যান্ট এভিনিউর মিউনিসিপ্যাল পার্কে
জানাজা হবে। জানায়ায় সিটি মেয়র, নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও
ফেডারেল প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।”
উত্তর আমেরিকায় জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি
বদরুল হোসেন খান জানিয়েছেন, ইমামের লাশ
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে গ্রামের বাড়ি গোছাপাড়ায় পাঠানো
হবে। আর থেরাউদ্দিনকে দাফন করা হবে নিউ ইয়র্কের
মুসলিম গোরস্থানে।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের আলাউদ্দিন আখঞ্জি ৫ বছর
আগে ইমিগ্র্যান্ট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান। ৩ সন্তানের
মধ্যে বড় ছেলের বিয়ে উপলক্ষে আগামী ৩১
আগষ্ট তার দেশে ফেরার কথা ছিল।
থেরাউদ্দিনের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ
উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নে। তবে দেশে
পরিবারের আর কেউ থাকেন না। তার এক আত্মীয় একটি
টেলিভিশন চ্যানেলকে জানিয়েছেন, সাড়ে ৪ বছর
আগে নিউ ইয়র্কে যান থেরাউদ্দিন। তার ছেলে-
মেয়ে, ভাই-বোনসহ পরিবারের সবাই সেখানেই
থাকেন।
ঘটনার পরপরই নিউ ইয়র্কের পুলিশ ঘাতকের স্কেচ
প্রকাশ করেছে। তিনি রোববার বলেন, সোমবার
জানাজার পর সেখানে শোক সমাবেশ হবে। এছাড়া বুধবার
সন্ধ্যায় আরেকটি সমাবেশের উদ্যোগ নেওয়া
হয়েছে।
নিউ ইয়র্কের মত শহরে ধর্মীয় নেতাকে গুলি করে
হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে
মুসলিম-আমেরিকানদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত
‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স’। সংগঠনের
কমিউনিকেশন্স ডিরেক্টর ইব্রাহিম হুপার বলেন, “কেন এ
হামলা ঘটেছে তা স্পষ্ট না হলেও এটি যে গুপ্তহত্যা
তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ঘটনার পরদিন আল
ফোরকান মসজিদে গিয়ে মুসলিম কমিউনিটির পাশে থাকার
কথা জানান নিউ ইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলার স্কট স্ট্রিঙ্গার ও
কুইন্স বরোর প্রেসিডেন্ট মেলিন্ডা কাটজ। এদিকে
নিহত এ দুই বাংলাদেশির পরিবারকে অর্থ সহায়তার ঘোষণা
দিয়েছে নিউ ইয়র্কের ইসলামিক লিডারশিপ কাউন্সিল।
কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক শেখ আহমেদ মোবারক
এক বিবৃতিতে এই সহায়তা দেওয়ার কথা জানান।
 
Top